ভুঁড়ি কমানোর উপায়, হোম ওয়ার্কআউট, পেটের চর্বি কমানো- bhalo lage

 


এক্সারসাইজ শুরু করা সহজ, কঠিন হচ্ছে প্রতিদিন নিয়ম মেনে করা। কিন্তু আপনি যদি একবার অভ্যাসে পরিণত করতে পারেন, তাহলে শুধু ভুঁড়ি আর মেদ কমানো না আপনার পুরো লাইফস্টাইল পরিবর্তন হয়ে যাবে।


কেন এক্সারসাইজ করবেন?

  • পেটের চর্বি কমাতে
  • সিক্স প্যাক বানাতে
  • গ্লুটস টোন করতে
  •  আত্মবিশ্বাস বাড়াতে
  •  সুস্থ থাকতে


কিভাবে শুরু করবেন? 

1. সিদ্ধান্ত নিন - এখনই শুরু করবেন

  •   দেরি নয়, আজ থেকেই ৫টা সহজ এক্সারসাইজ শুরু করুন।

2. সময় নির্ধারণ করুন

  •    সকালে উঠে বা রাতে ঘুমের আগে - আপনি যখন ফ্রি থাকেন।
  •    প্রতিদিন ২৫-৩০ মিনিট সময় রাখুন।

3. একটা নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুন

  •   আপনার ঘরের একটা কোনা, বিছানার পাশে বা বারান্দা।

4. নির্দিষ্ট রুটিন বানান

5. সাধারণ পোশাক পরুন

  •    ট্রাউজার আর ঢিলেঢালা টি-শার্ট যথেষ্ট। জুতা পরা বাধ্যতামূলক না।




খাওয়া দাওয়া কেমন হবে? কী খাবেন ওয়ার্কআউটের আগে ও পরে?


ওয়ার্কআউটের আগে (৩০-৬০ মিনিট আগে):

  • কলা
  • ওটস বা এক টুকরো পাউরুটি ও পিনাট বাটার
  • গ্রিন টি বা কালো কফি (অতিরিক্ত চিনি ছাড়া)

অথবা ছবির এই খাবারগুলো









ওয়ার্কআউটের পরে (৩০ মিনিটের মধ্যে):

  • সেদ্ধ ডিম / অমলেট
  • গ্রিলড চিকেন বা পনির
  • ফল (আপেল, কলা বা পেঁপে)
  • পানিশূন্যতা দূর করতে পানি বা লেবু পানি


যা করা যাবে না
  • ভাজাপোড়া কমাবেন
  • চিনি একদম বাদ
  • পানি বেশি খাবেন
  • রাতের খাবার হালকা রাখবেন
  • পেট ফুলে থাকে এমন খাবার এড়িয়ে চলবেন (যেমন সোডা, পেপসি, বেশি চালের ভাত)



কোন কোন এক্সারসাইজ করবেন?





  • ওয়ার্ম আপ (৫ মিনিট)

1. জগিং অন দ্য স্পট – ১ মিনিট
2. হাই নী – ৩০ সেকেন্ড
3. আর্ম সার্কেল – ১ মিনিট
4. জাম্পিং জ্যাক – ১ মিনিট
5. বডি টুইস্ট – ১ মিনিট


  • রানিং (৪–৫ কিমি)
  • হাইড্রেশন (১–২ মিনিট পানি খাওয়া)

 




  • মূল ওয়ার্কআউট (১৫–২০ মিনিট)

1. পুশ আপ – ৩ সেট, ১০–১২ রেপ
2. আর্ম রেইজ (পানি ভর্তি বোতল দিয়ে) – ৩ সেট, ১২ রেপ
3. ওয়াল পুশ আপ – ২ সেট, ১৫ রেপ
4. স্কোয়াট – ৩ সেট, ১৫ রেপ
5. লাঞ্জ (প্রতিটি পা) – ২ সেট, ১০ রেপ
6. ক্যালফ রেইজ – ৩ সেট, ২০ রেপ
7. সিট আপ – ৩ সেট, ১৫ রেপ
8. প্ল্যাঙ্ক – ৩ সেট, ৩০–৬০ সেকেন্ড ধরে রাখা
9. বাইসাইকেল ক্রাঞ্চ – ২ সেট, ১৫ রেপ




কুল ডাউন ও স্ট্রেচিং (৫ মিনিট)


ওয়ার্কআউট শেষ করার পর শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য হালকা এক্সারসাইজ ও স্ট্রেচিং করা। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ:

  • হৃদস্পন্দন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়
  • পেশির খিঁচুনি বা ব্যথা কমে
  • শরীর রিল্যাক্স হয়
  • ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে



কিছু অতিরিক্ত টিপস

1. ওয়ার্কআউটের সময় পানি পান করুন, তবে অতিরিক্ত নয়।
2. পর্যাপ্ত ঘুম (৬–৮ ঘণ্টা) দিনশেষে অবশ্যই নিশ্চিত করুন।
3. ওয়ার্কআউটের ভিডিও দেখে করলে ফর্ম ঠিক রাখতে সহজ হয়। 
4. প্রতিদিন না পারলে সপ্তাহে ৩ দিন করলেও শুরু করতে পারবেন।
5. অসুস্থ শরীর নিয়ে বা একদম খালি পেটে - ভরপেটে ওয়ার্কআউট করবেন না।

 

 
 


 উপসংহার

বাড়িতে ওয়ার্কআউট করা খুবই সহজ ও কার্যকর, যদি আপনি পরিকল্পনা অনুযায়ী তা শুরু করেন এবং ধৈর্য ধরে চালিয়ে যান। সঠিক খাদ্য, নিয়মিত এক্সারসাইজ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই তিনটি মিলে আপনাকে এনে দেবে কাঙ্ক্ষিত ফিটনেস।


“আপনার দেহ আপনার হাতে, আজকে যত্ন না নিলে আগামীকাল সেটা আপনাকে কষ্ট দেবে।”


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url