কোন কাজ করলে স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায় - bhalo lage

 

স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাওয়ার কারণ ও সতর্কতা




স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায় যেসব কারণে:


যেসব কাজে মাহরাম সম্পর্ক নষ্ট হয় বা গঠন হয়, কিংবা যেসব কর্ম শরিয়ত স্পষ্টভাবে হারাম ও চিরস্থায়ী নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছে — সেসবের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সম্পর্ক চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।

১. স্বামী স্ত্রীকে তিনবার তালাক দিলে — স্ত্রী স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়।

অন্য স্বামীর সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহ, সহবাস, ও তারপর তালাক/মৃত্যু ছাড়া আবার বিয়ে করা জায়েজ নয়।


২. স্ত্রী বা স্বামী মাহরাম আত্মীয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক করলে (যেমনঃ):

শ্বশুর-পুত্রবধূ:
শ্বশুর যদি পুত্রবধূর সাথে কামভাবপূর্ণ স্পর্শ/সহবাস করে, পুত্রবধূ তার স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়।

শাশুড়ি-জামাই:
শাশুড়ি যদি জামাইয়ের সাথে কামভাবপূর্ণ আচরণ করে বা সহবাস করে, জামাই তার স্ত্রীর জন্য হারাম হয়ে যায়।

মা-ছেলে:
মা যদি ছেলের সাথে (নাউযুবিল্লাহ) কামুক আচরণ বা সহবাস করে, মা তার স্বামীর (অর্থাৎ ছেলের বাবার) জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে।

এইসব অপরাধ সবচেয়ে বড় হারাম এবং জঘন্য গোনাহ। "যিনা বিল মাহারিম" হলে, দাম্পত্য সম্পর্ক চিরতরে বাতিল হয়ে যায়।


৩. ইলাআ:
স্বামী যদি কসম করে স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না (৪ মাস বা চিরকাল), শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হতে পারে।


৪. জিহার: স্বামী স্ত্রীকে বলে: “তুমি আমার মা’র মত”  এটা জিহার। এতে স্ত্রী তখন তৎক্ষণাৎ সহবাসের জন্য হারাম হয়, যতক্ষণ না কাফফারা আদায় করা হয়।


৫. স্ত্রী বা স্বামী অন্য কারো সাথে যিনা (ব্যভিচার/অসচ্চারিত্র্য) করে মাহরাম সম্পর্ক তৈরি হলে:

উদাহরণ:
স্বামী স্ত্রীর মার সাথে যিনা করে → স্ত্রী চিরতরে হারাম।

স্ত্রী স্বামীর বাবার সাথে যিনা করে → স্বামী চিরতরে হারাম।


৬. স্বামী বা স্ত্রী যদি ইসলাম ত্যাগ করে (কুফরি করে), তাহলে তাদের নিকাহ তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে যায়।





স্বামী-স্ত্রী বৈধ সম্পর্ক থাকা অবস্থায় যদি উপরোক্ত গর্হিত বা শরিয়তবিরোধী কাজ করে, তাহলে তারা একে অপরের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যেতে পারে। তাই এগুলো থেকে দূরে থাকা ফরজ, এবং ভুল করলে সঙ্গে সঙ্গে তওবা জরুরি।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url