বিয়ের পরও ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার উপায় - bhalo lage
বিয়ের পর সম্পর্ক কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায়? চলুন জেনে নেয়া যাক
বিয়ে একটি জান্নাতী সম্পর্ক। দুজন মানব মানবীর প্রথম সম্পর্কের নাম বিয়ে।
বিয়ের পর সম্পর্ক একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে? পুরোনো প্রেম আর নেই? এই লেখায় রইলো বাস্তব কিছু টিপস, রোমান্স আইডিয়া ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা ফেরানোর উপায়। সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য পড়তেই হবে!
বিয়ের প্রথম কয়েক বছর যেমন হঠাৎ পাওয়া ফোনকল, দীর্ঘ সময়ের হাত ধরা, গভীর চাহনি এসব থাকে অনেকটা স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু বছর গড়ালে আসে রুটিন, দায়িত্ব, ক্লান্তি, কখনও অবহেলা। সংসারে নতুন সদস্য আসলে তো কথাই নেই, তখন যেন প্রেমটা হয়ে যায় দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। কিন্তু আসলে কি এর বাইরে কিছু ভাবা যায় না?
চেষ্টা করলে যায়। ইচ্ছেটাই আসল। সময় না থাকলে সময় তৈরি করতে হয়।
চোখে চোখ রাখা, চুপচাপ কিছুক্ষণ পাশে বসা এই ছোঁয়াগুলো শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবে খুব গভীরভাবে কাজ করে। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও জড়িয়ে ধরুন চুমু খান।
একসাথে নামাজ পড়েন, নামাজের পর দুই মিনিট একে অপরের জন্য দোয়া করুন। কোরআন হাদিসের তালিম নেন। কোনো পারিবারিক সিদ্ধান্তে স্বামীর ওপর সব ছেড়ে না দিয়ে স্ত্রী হিসেবে আলোচনায় যুক্ত হোন। তেমনি স্ত্রীও সব চাপ একা কাঁধে না নিয়ে, স্বামীর সাথে শেয়ার করুন ও তার কথা মেনে চলুন। স্ত্রী আপনার ঘরের রাণী। যে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার পরামর্শ নিন, সে তো আপনার অর্ধেক অঙ্গ অর্ধেক দ্বীন। তার যৌক্তিক পরামর্শ মেনে চলুন। নিজেকে রাজা মনে করে তাকে রাণীর মত ট্রিট করুন।
- সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখুন
- একদিন পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের জন্য রাখুন। প্রতিদিন অল্প, শুক্রবার বেশি
- মঙ্গলবার, বুধবার, শুক্রবার, শনিবার (৪ দিন বেছে নিন রোমান্সের জন্য)
- রবিবার নিজেদের সময় কাটান
এভাবে নিজেদের দিনগুলি ভাগ করে নেন।
কখনো রাগ করে কথা বলা বন্ধ করবেন না। কখনো না মানে কখনোই না। শয়তান হালাল সম্পর্ক নষ্ট করে আর হারাম সম্পর্কে মাতিয়ে রাখে। রাগের মাধ্যমে শয়তান সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চেষ্টা করে। তাই কখনো রাগ করে আলাদা বিছানায় থাকবেন না, কথা বলা বন্ধ করবেন না। যে নারী তিন বেলার খাবার তৈরি করে, তার মন বোঝার চেষ্টা করুন। যে পুরুষ বাইরে কষ্ট করছে, তার ক্লান্তির ভাষা পড়ুন। একে অপরকে বুঝুন।
৫. সব সময় একইরকম ঘরোয়া রুটিন ধরে রাখলে একঘেয়েমি আসবেই। তাই মাঝে মাঝে নতুন কিছু ট্রাই করতে পারেন
- দৌড় প্রতিযোগিতা করেন
- বই পড়া প্রতিযোগিতা করেন
- কোন স্কিল একসাথে শেখা শুরু করেন
- একে অপরকে কবিতা-শায়েরী শোনান
- বাড়িতে শুরু করুন পিঠা উৎসব
- স্পা ডে রাখুন
- চিঠি লিখুন একে অপরের ভালমন্দ নিয়ে
- ফ্যাশন শো করেন। নিজেরাই আর্টিস্ট নিজেরাই দর্শক নিজেরাই জাজ
- সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নিজেরাই নিজেদের কাউন্সেলিং করুন। নিজেদের সমস্যাগুলো খুজে বের করে সমাধান করুন। একে অপরের চক্ষুশীতলকারী হয়ে যান। নিজেকে রাঙিয়ে তুলুন প্রিয় মানুষটির ইচ্ছা অনুযায়ী
- ট্রুথ এন্ড ডেয়ার গেম খেলুন
- শীতের সিজনে ব্যাডমিন্টন খেলুন
- নেক কাজের প্রতিযোগিতা করুন
- আশে পাশের কোন সুন্দর জায়গা থেকে ঘুরে আসুন
- কেউ কাওকে কখনো একাকীত্ব ফীল করতে দিবেন না
- একসাথে খাওয়া দাওয়া করবেন, পারলে এক প্লেটে খাবেন
- একে অপরকে নজরদারিতে রাখবেন ( বিশেষ করে মোবাইল)
- চোখের হেফাজত করবেন মানে চোখের পর্দা করবেন
- বেশিরভাগ পরকীয়ারমত জীবনবিধ্বংসী পাপ গড়ে উঠে একে অপরকে স্পেস দেওয়ার কারণে। তাই কোনভাবেই কোন স্পেস দিবেন না। চব্বিশ ঘন্টা আঠার মত লেগে থাকতে হবে এমন না। তার নীরবতার ভাষা বুঝুন, তার মন পড়ার চেষ্ঠা করুন
- স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে অপমানমূলক কথা বলবেন না
- নিজেদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকতে দিবেন না। তৃতীয় ব্যক্তির কথায় নাচবেন না
- আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসুন
ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট না পারলে পাশের পার্কেই হোক। শুধু ফোন না নিয়ে গিয়ে একে অপরকে সময় দিন।
প্রেম কখনো পুরোনো হয় না, অবহেলিত হয়।
একটা সম্পর্কের শেষ কখনো বিচ্ছেদ দিয়ে শুরু হয় না। শুরু হয় কথা না বলা দিয়ে। শুরু হয় ছুঁয়ে না দেখার মধ্য দিয়ে। শুরু হয় চোখে চোখ না রাখার মাধ্যমে। শুরু হয় একে অপরকে বুঝতে না পারার মধ্যে দিয়ে।
আপনারা কেউই খারাপ নন। কেবল সময় ও ভালোবাসা ব্যবস্থাপনায় একটু সচেতন হলেই সেই আগের রঙটা ফিরে আসতে পারে। প্রেম, বিশ্বাস, স্পর্শ, সময় - এ চারটি জিনিস সচেতনভাবে দিলে এক ছাদের নিচে থেকেও অচেনা হয়ে যাওয়া হবে না। বরং এক ছাদের নিচেই গড়ে উঠবে একটা নতুন 'চেনা' প্রেম।
