বিয়ের আগে তালাক সম্পর্কে জানুন, না জেনে বিয়ে করবেন না - bhalo lage

বিবাহিত জীবনে অসচেতনতা




বিয়ে শুধু একটি সামাজিক চুক্তি নয় বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত একটি পবিত্র আমানত। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই পরস্পরের জন্য লিবাস বা পোশাক, সহচর, শান্তির ঠিকানা।

(১)

কিন্তু আশ্চর্যভাবে আজকের সমাজে তালাক যেন খুব সহজ এক সমস্যার সমাধান। বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই অনেক দম্পতি মনে করে

“আগের জীবনটাই ভালো ছিল”

“এই বিয়ে তো ভুল ছিল”

“চলো আলাদা হয়ে যাই”

এসব চিন্তা কেন এত দ্রুত মাথায় আসে?


কারণ বিয়ের আগে কেউই বিবাহিত জীবনের বাস্তবতা, উত্থান-পতন, দায়িত্ব,সবর এসব নিয়ে গভীর প্রস্তুতি নেয় না। দ্বীনি মানুষদের মধ্যেও তালাক আজ হালাল হলেও অন্যতম অপছন্দনীয় এই বিষয়টিকে অতিরিক্ত হালকা করে ফেলা হয়েছে।


(২)

অনেক ছেলে মনে করে-

বাবা-মা যদি স্ত্রীকে তালাক দিতে বলে তাহলে দিয়ে দেব।


ইসলামে বলা হয়েছে-

আল্লাহর অবাধ্যতা করে কোনো মাখলুকের আনুগত্য নেই।

-মুসনাদে আহমদ ১০৯৮

অর্থাৎ বাবা-মা হলেও কেউ যদি জুলুমের নির্দেশ দেয় সেটি মানা হারাম।



(৩)

গত কয়েকদিনে অসংখ্য ঘটনা দেখা গেছে স্বামী রাগের মাথায় একসাথে তিন তালাক দিলেন, পরে বলছেন, রেগে ছিলাম, তাই তালাক হয়নি। তিনটি বলেছি, তাই একটাই হবে। এগুলো ভুল এবং মূর্খতা।


ইসলামী বিধান:

  • রাগের মাথায় তালাক দিলে তালাক হয়ে যায়
  • ভালো অবস্থায় বা রাগে দুই অবস্থায়ই একই বিধান
  • ঠাট্টা করে তালাক দিলেও তালাক হয়ে যায়


অনেকেই রাগের মাথায় তিন তালাক দিয়ে পরে আট-দশ বছর ধরে সংসার করছেন। এরপর তারা জিনার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে, অথচ জানেও না। তারপর সন্তানও হয়। আল্লাহুম্মাগফিরলী


(৪)

ইদ্দত শেষ না করেই দ্বিতীয় বিয়ে আরেকটি বড় ভুল


অনেক বোন তালাকের পর ইদ্দত পূর্ণ না করেই দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেলেন। এতে দ্বিতীয় বিয়েটি বাতিল হয়ে যায়। এটি শুধু হারাম না, বরং জিনা।


ইদ্দত কি?

- ইদ্দত (Iddah) হলো ইসলামিক শরিয়ত অনুযায়ী একজন বিবাহিত নারীর বিচ্ছেদ (তালাক), খোলাআ, বা স্বামীর মৃত্যু-এর পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার বিধান। এই সময়ে নারী নতুন করে বিয়ে করতে পারেন না।



(৫)

কেন আজ তালাক এত সহজ হয়ে গেছে?


ক) বিয়েকে ফ্যান্টাসি হিসেবে দেখা। অনেকে বিয়ে মানেই- খুনসুটি,রোমান্টিকতা, সারাজীবন শান্তি বাস্তবতা হলো বিয়ের আগেও পরীক্ষা, বিয়ের পরও পরীক্ষা। সন্তান হলেও পরীক্ষা, না হলেও পরীক্ষা।এটাই দুনিয়ার নিয়ম।

খ) সবর ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার অভাব। মা-বাবাদের প্রজন্ম কোথায় ছিল? তারা বহু কষ্ট সহ্য করেও সংসার টিকিয়ে রেখেছেন। আজকের প্রজন্ম প্রথম সমস্যাতেই রণে ভঙ্গ দিচ্ছে।

গ) তালাকের মাসআলা না জানা:

বিয়ে করতে প্রস্তুতি নেয় মানে ছবি, দাওয়াত, পোশাক, ইভেন্ট, ফেইসবুকে ছবি থেকে ধরে নানা কাহিনী।কিন্তু তালাকের বিধান জানে না কেউই। হলফ করে বলা যায়- তালাকের মাসাইল না জেনে বিয়ে করা আজ কাল মহামারি।



(৬)

এভাবে তালাক দিবেন না 

  • একসাথে তিন তালাক বলা
  • রাগে, গালাগালি করে তালাক বলা
  • হায়েজের সময় তালাক
  • সহবাসের পরে একই তুহরে তালাক
  • লিখে পাঠানো বা মেসেজে দেওয়া (প্রয়োজন ছাড়া)


তালাক দিতে হবে এমন সময় যখন

  • স্ত্রী হায়েজে নেই,
  • এবং ঐ তুহর (পবিত্রতার সময়) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস হয়নি।


শান্ত অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা। পরিষ্কার, সুস্পষ্ট ইচ্ছা থাকতে হবে। তালাকের বাক্য উচ্চারণ (একবারে একটি তালাক)। দুটি ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর সামনে বলা উত্তম। স্ত্রীকে তালাকের খবর জানানো। মুখে বলা হলে শুনলেই যথেষ্ট। লিখিত দিলে (SMS/চিঠি) তিনি পড়ে জানলেই তালাক কার্যকর হবে।



একসঙ্গে তিন তালাক বলা বিদআত ও গুনাহ।

কিন্তু উচ্চারণ করলে তিনটাই হয়ে যায়। তাই কখনোই তিন তালাক একসাথে দেবেন না।


তালাক যে কতটা স্পর্শ কাতর তা সাধারণ মানুষের চিন্তার বাইরে। তাই তালাক নিয়ে আরো জানতে নির্ভরযোগ্য এই লেখাগুলো পড়তে পারেন

১) https://www.ifatwa.info/1049

২) https://islamqa.info/bn/categories/topics/48



বিয়ে আল্লাহর একটি আমানত। এই আমানতের মর্যাদা রাখা দাম্পত্য জীবনের প্রথম দায়িত্ব। রাগ নিয়ন্ত্রণ, মাসআলা জানা, ধৈর্য, ন্যায্যতা এসব ছাড়া সুন্নাহ অনুযায়ী সুখী দাম্পত্য সম্ভব নয়।


শেষ কথা


একটা ভুল শব্দ,
একটা মুহূর্তের রাগ,
একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত
জীবনকে চিরকালের আফসোসে ভরিয়ে দিতে পারে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url