স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কতটুকু প্রাইভেসি থাকা উচিত - bhalo lage
বিয়ে মানে শুধু দুইজন মানুষের একসাথে থাকা নয় বরং দুইটি আলাদা ব্যক্তিত্ব, আলাদা চিন্তা, আলাদা অভ্যাস একত্রে মিলিত হওয়া। তাই প্রশ্ন আসে -
- বিয়ের পর কি নিজের আলাদা স্পেস থাকবে?
- সবকিছু কি শেয়ার করতে হবে?
- আলাদা স্পেস কী? কেন দরকার? কেন দরকার না?
এগুলো নিয়ে আজকে আলোচনা করবো।
স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে প্রাইভেসি
স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হবে স্বচ্ছ। একজন আরেকজনের মুভমেন্ট দেখে যেন বলতে পারে সে কি চায়, কি ভাবছে। কেউ কাউকে জোর করে কনট্রোল করবে না কিন্তু ভালবেসে একজন আরেকজনের দ্বারা কনট্রোলড হবে।
স্ত্রী যদি নিজের কিছু সময় একা থাকতে চান বা স্বামী নিজের বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে চায় তা দোষের না। কিন্তু স্ত্রীকে সময় না দিয়ে বন্ধু নিয়ে পড়ে থাকা যাবে না। বন্ধু বা অন্য কারো কোন গোপন তত্ত স্বামী বা স্ত্রীকে জানানো উচিত হবে না। এটাও একধরনের প্রাইভেসি।
সব সময় একসাথে থাকা বা সবকিছু শেয়ার করতে বাধ্য হওয়া মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। শেয়ার করার বিষয়টা আসতে হবে মন থেকে। এমন অনেক দম্পতি আছেন যাদের একজন আরেকজনের পেটের খবর না বললে শান্তি পান না।
যদি একজন অন্যজনের ব্যক্তিগত জিনিসে সবসময় হস্তক্ষেপ করে, তাহলে সেটা অসম্মান হিসেবে দেখা যায়। আবার কারো কারো কাছে বিষয়টা হয়ে উঠে কেয়ার বা যত্নের।
সবকিছু সবসময় প্রকাশ করলে অনেক সময় বিরক্তি তৈরি হয়। কিছুটা রহস্য নিজেদের মধ্যে রাখুন। একজন আরেকজনের প্রতি আগ্রহ কমবে না। এই যেমন কখনো হিমুর মতো আচরণ করুন কখনো মিসির আলীর মতো।
বিশ্বাসের উপর দাঁড়ানো সম্পর্কই সবচেয়ে শক্তিশালী।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে অন্তত ৭০ শতাংশ স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের পিন নাম্বার, পাসওয়ার্ড তো জানেনই, এমনকী তাঁরা ফিঙ্গারপ্রিন্টও অদলবদল করেন। স্বামীর ব্যাংক-এর এটিএম, ক্রেডিট কার্ড ডিটেইলস সবই স্ত্রীয়ের নখদর্পণে। উলটোটাও অনেক সময় ঘটে। সমীক্ষায় এও দেখা গেছে, এই পাসওয়ার্ড বা পিন জানিয়ে দেওয়া নিয়ে দম্পতিদের তেমন কোনও আপত্তিও নেই।
কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন পারস্পরিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।তখন একে অন্যের প্রাইভেসির অপব্যবহার করেন। সন্দেহের বশে পার্টনারের ফোন চেক করা কখনওই রুচিসম্মত নয়।আবার সম্পর্ক খারাপ বলেই স্বামীকে ধনেপ্রাণে শেষ করতে রাতারাতি তার ব্যাংক-এ জমা টাকা তুলে নেওয়াও কাজের কথা নয়।
আমি আমার জীবন আলাদা, তুমি আলাদা - এতে দূরত্ব তৈরি হয়। যদি একজন সবকিছু লুকিয়ে রাখে, ফোন, মেসেজ, চলাফেরা অন্যজনের মনে সন্দেহ জন্মাতে পারে। সন্দেহ সৃষ্টি করার মত কোন কাজ করা উচিত নয়।
সঙ্গীর প্রতি সবসময় লয়াল থাকা। যে চোর , যার মনের মধ্যে শয়তানি সেই প্রাইভেসির আড়ালে কুকাজ করে বেড়ায়।
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, রহমত ও আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরা একে অপরের জন্য পোশাকস্বরূপ”এর অর্থ, একে অপরকে আড়াল করা, সম্মান করা, নিরাপত্তা দেওয়া
স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয়তা প্রকাশ গর্হিত অপরাধ
স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করা গর্হিত অপরাধ। এই কাজ করা কবিরা গুনাহ। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম মানুষ হবে ওই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সঙ্গে মিলিত হয়, অতঃপর সে তার স্ত্রীর গোপনীয়তা প্রকাশ করে দেয়। (সহীহ মুসলিম, ১৪৩৭)
