নতুন জামাই বা বউয়ের মুখে গন্ধ ? - bhalo lage

 



নতুন জামাই বা বউয়ের মুখে গন্ধ পেলে করণীয়

নতুন জামাই বা বউয়ের মুখে গন্ধ (bad breath / হ্যালিটোসিস) হলে বিষয়টা খুব সংবেদনশীলভাবে সামলানো দরকার। সম্পর্কের শুরুতেই সরাসরি অপমান না করে যত্নের সাথে সমাধান করা ভালো। নিচে করণীয়গুলো দেওয়া হলোঃ


১. বিনয়ের সাথে বিষয়টি জানানো

  • একান্তে, শান্ত সময়ে কথা বলুন

  • তোমার মুখে গন্ধ লাগে , এটা কখনো বলবেন না
    “মনে হয় আমাদের দুজনেরই ওরাল কেয়ার একটু ভালোভাবে করা দরকার”

  • নিজেকে যুক্ত করলে অপরজন কষ্ট কম পাবে


২. নিয়মিত ওরাল হাইজিন

  • দিনে ২ বার ব্রাশ

mediplus gum care toothbrush
  • ভালো টুথ পেস্ট ব্যবহার করা
mediplus DS toothpaste
  • জিহ্বা পরিষ্কার করা (tongue cleaner ব্যবহার)

  • ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার

  • মাউথওয়াশ ব্যবহার

viodin 1% moutmouth wash


৩. পর্যাপ্ত পানি পান

মুখ শুকিয়ে গেলে গন্ধ বেশি হয়। তাই দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।



৪. খাবারের দিকে খেয়াল

  • পেঁয়াজ, রসুন, অতিরিক্ত মসলা কম খাওয়া

  • ধূমপান থাকলে বন্ধ করা

  • ফলমূল ও সবজি বেশি খাওয়া


৫. ডেন্টাল চেকআপ

অনেক সময় দাঁতের পোকা, মাড়ির সমস্যা বা পেটের গ্যাস থেকেও গন্ধ হতে পারে।  দাতের ফাকে খাদ্য কণা জমে শক্ত হয়ে গেলেও মুখে প্রচুর দুর্গন্ধ হয়। দাতের স্কেলিং করান। তাই সবচেয়ে ভালো হয় ডেন্টিস্ট দেখানো।




আমরা নিয়মিত সঠিকভাবে দাঁতব্রাশ করি না,

যতবারই করি না কেনো; ওরাল হাইজিন মেইনটেইন করতে ডেন্টাল ফ্লস এবং ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যাবহার করি না বললেই চলে। এর ফলে দাঁতে খাদ্য কণা বা প্ল্যাক জমে শক্ত হয়ে ক্যালকুলাস/টার্টার তথা হলুদ/কালচে পাথরের রূপধারণ করে। স্কেলিং বা দাঁত ওয়াশের মাধ্যমে এই ক্যালকুলাস দূর করা হয়।

ডেন্টিস্টরা প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর স্কেলিং করানোর পরামর্শ দিলেও বছরে অন্তত একবার বিডিএস ডিগ্রীধারী ডেন্টিস্টের নিকট গিয়ে স্কেলিং করানো উচিৎ। তা না হলে অনেক বেশী পাথর জমে জিনজিভাইটিস,পেরিওডন্টাইটিস ইত্যাদি হতে পারে; যার ফলশ্রুতিতে ব্রাশ করতে গেলে বা থুথু ফেলতে গেলে রক্ত পড়তে পারে, মুখে দূর্গন্ধ হতে পারে,মাড়ি নীচে নেমে যেতে পারে,মাড়ি সরে যেতে পারে,মাড়ি ফুলে যেতে পারে,মাড়ি ক্ষয় হয়ে যেতে পারে- ইত্যাদি বিভিন্ন জটিলতা হতে পারে।

দীর্ঘদিন স্কেলিং না করানোর জন্যে যেসব সমস্যার উৎপত্তি হয়, ক্যালসিয়াম আর ভিটামিন ডি,ভিটামিন সি খেয়ে কিংবা টুথপেষ্ট ব্যাবহারের মাধ্যমে সেসব সমস্যার সমাধান অসম্ভব। স্কেলিং একটি ব্যাথামুক্ত চিকিৎসা; তবে অনেক বেশী ক্যালকুলাস জমে গেলে সেটা দূর করার সময়ে কিছুটা শিরশির অনূভুতি হতে পারে।

পলিশিং করা হয় পান-সুপারি, সিগারেট,আয়রনযুক্ত পানি ইত্যাদি খাবার ফলে দাঁতে জমা কালচে/লালচে/হলদে দাগ দূর করতে। দাঁতে স্টেইন/দাগ/ময়লা পড়লে দেখতে খারাপ দেখা যায়; স্কেলিং+পলিশিং করালে এসব চলে যাবে।

স্কেলিং এবং পলিশিং করার পরে দাঁতের অরিজিনাল শেড/কালার বোঝা যাবে। সেই কালারে সন্তুষ্ট না হলে,আরেকটু সাদাটে করতে চাইলে টুথ হোয়াইটেনিং করানো যেতে পারে। তবে এটা সাময়িক চিকিৎসা,পাঁচ-ছয় মাসের ভেতর দাঁত আবার আগের শেডে/কালারে ফিরে যাবে। টুথ হোয়াইটেনিং করাতে নূন্যতম আট-দশ হাজার টাকা বাজেট রাখতে হবে। স্থায়ীভাবে দাঁতের শেড পরিবর্তন করারও চিকিৎসা রয়েছে,তবে তা বেশ ব্যায়বহুল।



সামন্য এটা যেন কখনোই অপমান বা ঝগড়ার কারণ না হয়। 




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url